অন্য দেশে উপার্জিত আয় দেখিয়ে কি বিদেশি গৃহঋণ পাওয়া যায়?

অনেক ঋণদাতা বিদেশের বেতন বা ব্যবসার আয় বিবেচনা করেন, কিন্তু তা কতটা কম ধরে হিসাব, যাচাই ও মুদ্রায় রূপান্তর করেন, সেটিই ঋণযোগ্যতা ঠিক করতে পারে। বিষয়টি শুধু কত আয়, তা নয়; ব্যাংকের নিজস্ব নিয়মে সেই আয়ের উৎস, মুদ্রা ও প্রমাণ গ্রহণযোগ্য কি না।

কোন বিদেশি আয় গ্রহণযোগ্য, ঋণদাতাই ঠিক করেন

নিয়মিত বেতনকে বোনাস, লভ্যাংশ, ভাড়া, পেনশন, ফ্রিল্যান্স আয় বা নিজের নিয়ন্ত্রণাধীন কোম্পানির লাভ থেকে আলাদাভাবে দেখা হতে পারে।

ব্যাংক সাধারণত জটিল আয়ের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকে। বড় প্রতিষ্ঠানের বেতন সহজে গ্রহণযোগ্য হলেও বোনাস, লভ্যাংশ, ভাড়া বা নিজের কোম্পানির লাভ কম ধরে গণনা কিংবা পুরোপুরি বাদ দিতে পারে। ব্যাংক যে আয় ব্যবহারই করবে না, তার জন্য মাসের পর মাস নথি জোগাড় করার আগে প্রতিটি আয়ের ধরন কীভাবে গণনা হয় জেনে নিন।

ঋণ চূড়ান্ত হওয়ার আগে কতবার নথি হালনাগাদ করতে হতে পারে, জিজ্ঞেস করুন। দীর্ঘ সম্পত্তি লেনদেনে বেতনস্লিপ, ব্যাংক স্টেটমেন্ট বা কর সনদের মেয়াদ ফুরিয়ে যেতে পারে, ফলে একেবারে শেষে দ্বিতীয় দফা প্রমাণ দিতে হয়।

নথি ও মুদ্রার হিসাব নিজের দেশের তুলনায় বেশি সতর্ক হতে পারে

ব্যাংক আয়ের দেশের চাকরির চুক্তি, কর রিটার্ন, ব্যাংক স্টেটমেন্ট ও ঋণের তথ্য চাইতে পারে; ব্যাংকের ভাষায় না থাকলে অনুবাদ বা প্রত্যয়ন লাগতে পারে। ভবিষ্যৎ বিনিময়হারের ওঠানামা সামলাতে বিদেশি মুদ্রার আয় নির্দিষ্ট অনুপাতে কম ধরে বা আজকের বাজারদরের বদলে নিজস্ব বিনিময়হার ব্যবহার করতে পারে।

আয় ভালো হলেও মুদ্রার কারণে অনুমোদিত ঋণ কমতে পারে। ব্যাংক বিদেশি আয় রক্ষণশীল হারে রূপান্তর করে বা বিনিময়হারের ঝুঁকির জন্য আরও ছাড় কাটতে পারে। তাই নিজের ব্যাংক হিসাবে যে আয় দেখা যায় তার বদলে ঋণদাতা পরীক্ষার পরে যে আয় মেনে নিচ্ছেন, সেটির ওপর ভিত্তি করে বাজেট করুন।

ঋণের ওপর নির্ভরশীল কেনার প্রস্তাব দেওয়ার আগেই আয়ের নথি তৈরি রাখুন। কর রিটার্ন, চাকরির চুক্তি, ব্যাংক স্টেটমেন্ট ও কোম্পানির হিসাবের অনুবাদ বা প্রত্যয়ন লাগতে পারে। ক্রয়চুক্তির সময়সীমা শুরু হওয়ার পরে সেগুলো জোগাড় করতে গেলে অপ্রয়োজনীয় চাপ বাড়বে।

স্বনিয়োজিত আয় ও আগের ঋণ আরও কঠোরভাবে যাচাই হয়

ব্যবসার মালিককে কয়েক বছরের হিসাব, করদাখিল ও বাড়ি কেনার পরেও আয় চলবে তার প্রমাণ দিতে হতে পারে। অন্য দেশের গৃহঋণ, ব্যক্তিগত ঋণ, ক্রেডিট কার্ড ও ভরণপোষণের দায় ঋণ শোধের সামর্থ্য কমায়, সেগুলো গন্তব্য দেশের ক্রেডিট ব্যুরোতে না থাকলেও।

প্রথম নথি দেওয়ার পর ব্যাংক প্রশ্ন তুললে অনুবাদ ও প্রত্যয়নে আরও সময় লাগতে পারে। সাম্প্রতিক কর রিটার্ন, চাকরির প্রমাণ ও হিসাবের বিবরণ একটির পর একটি না পাঠিয়ে সময়ক্রমে গুছিয়ে প্রস্তুত করুন।

ঋণগ্রহীতা ও সম্পত্তি—দুজনেরই অনুমোদন জরুরি

বিদেশি আয় যত শক্তিশালী হোক, সম্পত্তির অবস্থান, মালিকানার ধরন বা মূল্যায়ন ব্যাংকের মানদণ্ডের বাইরে হলে লাভ নেই।

প্রাথমিক ঋণ অনুমোদনকে সব সম্পত্তির জন্য প্রতিশ্রুতি ভাববেন না। মূল্যায়ন, আয়ের নতুন যাচাই বা সম্পত্তির আইনি ধরন পর্যালোচনার পরে চূড়ান্ত অঙ্ক বদলাতে পারে। ক্রয়মূল্যকে সর্বোচ্চ ঋণসীমার নিচে রাখুন।

টাকার উৎস যাচাই ঋণ শোধের সামর্থ্য যাচাই থেকে আলাদা। ব্যাংক মাসিক কিস্তির জন্য বেতন গ্রহণ করেও অগ্রিম টাকা কোথা থেকে এসেছে জানতে চাইতে পারে। উপহার, বিক্রির অর্থ ও জমা সঞ্চয়ের স্পষ্ট নথি চূড়ান্ত নিয়মপালনের পরীক্ষার আগেই তৈরি রাখুন।

অনলাইন ক্যালকুলেটর যে ঋণ দেখায়, তার চেয়ে কম ধরে পরিকল্পনা করুন

শুধু মোট বেতন ধরে সামর্থ্য হিসাব না করে ব্যাংক পরীক্ষার পরে যে আয় ও ঋণদায় ধরে, তার ওপর ক্রয় বাজেট স্থির করুন।

ব্যাংক স্থায়ী চাকরির বেতনকে পরীক্ষামূলক মেয়াদ বা সদ্য পরিবর্তিত চাকরির আয় থেকে আলাদা করতে পারে। সদ্য শুরু হওয়া বেশি বেতনকে কয়েক বছর ধরে চলা তুলনামূলক কম বেতনের চেয়ে সতর্কভাবে দেখা হতে পারে।

যৌথ আবেদনে দুই ঋণগ্রহীতার আয় ভিন্ন দেশ বা মুদ্রায় হলে আরও জটিলতা আসতে পারে। ব্যাংক একটি আয় পুরো গ্রহণ করে অন্যটি কম ধরতে কিংবা দুজনের জন্য আলাদা প্রমাণ চাইতে পারে। দুই বেতন যোগ হলেই অনুপাতে বড় ঋণ মিলবে ধরে না নিয়ে ব্যাংক কীভাবে আয় ও ঋণদায় মেলায়, দম্পতির জেনে নেওয়া উচিত।

ভ্রমণের পরিকল্পনা করছেন?

SY.com-এ ফ্লাইট ও ভ্রমণের বিকল্প তুলনা করুন।

ফ্লাইট খুঁজুন