প্রথমে ব্যাংক আপনার মতো ক্রেতাকে ঋণ দেয় কি না দেখুন
কিছু ব্যাংক শুধু বাসিন্দা বা নির্দিষ্ট দেশের ঋণগ্রহীতাদের ঋণ দেয়। মূল্যায়ন, অনুবাদ বা আইনি কাজে টাকা খরচের আগে যোগ্যতা নিশ্চিত করুন। অনাবাসীদের ঋণ-সম্পত্তিমূল্যের অনুপাত সাধারণত কম হতে পারে; ফলে অগ্রিম ও কেনার করের জন্য বেশি নগদ দরকার।
বিদেশি ঋণগ্রহীতার ক্ষেত্রে প্রায়ই দুটি অনুমোদন লাগে—ঋণগ্রহীতার ও সম্পত্তির। ব্যাংক অবস্থান, দলিল, ভবনের ধরন বা মূল্যায়ন পছন্দ না করলে শক্তিশালী আয়েও ঋণ নিশ্চিত নয়। তাই ক্রয়চুক্তিতে ব্যাংকের সম্পত্তি যাচাইয়ের সুযোগ রাখুন।
ব্যাংকের মূল্যায়ন দরকষাকষিতে ঠিক হওয়া দামের নিচে হতে পারে, এবং ব্যাংক সাধারণত নিজের মূল্যায়ন ধরে ঋণ দেয়। ফলে যে ঘাটতি তৈরি হবে তা লেনদেনের বাকি অংশে বিপর্যয় না ঘটিয়ে ক্রেতাকে মেটাতে হবে।
বিদেশি ঋণগ্রহীতার আয়ের নথি সাধারণত বেশি জটিল
ব্যাংক কর রিটার্ন, বেতনস্লিপ, চাকরির চুক্তি, ব্যাংক স্টেটমেন্ট, আগের ঋণের প্রমাণ ও অগ্রিমের উৎস চাইতে পারে; কখনো অনুবাদ বা প্রত্যয়নসহ।
একাধিক দেশ থেকে নথি আসায় লেনদেনের সময়ও অনিশ্চিত হয়। অনুবাদ, কর রিটার্ন, স্টেটমেন্ট ও অর্থের উৎস অতিরিক্ত যাচাই হতে পারে। বিদেশি ঋণ নিজের দেশের ঋণের গতিতেই হবে ধরে খুব ছোট সময়সীমা রাখবেন না।
যোগাযোগ ও সই করার ব্যবস্থাও বুঝুন। স্বাক্ষর, নোটারি বা পরিচয় যাচাইয়ের জন্য সফর বা পাওয়ার অব অ্যাটর্নি লাগতে পারে। কোন ধাপ দূর থেকে করা যাবে, আগে জেনে নিন।
সুদের ধরন, মুদ্রা ও সম্পত্তির যোগ্যতা ঋণকে প্রভাবিত করে
শুধু প্রথম কিস্তি দেখবেন না; সুদ কখন বদলায়, ঋণের মুদ্রা কী এবং রূপান্তর বা হিসাবের ফি প্রকৃত খরচ কত বাড়ায়, বুঝুন। আয় ভালো হলেও অস্বাভাবিক দলিল, স্বল্পমেয়াদি ইজারা, অননুমোদিত পরিবর্তন বা মূল্যায়ন কঠিন এমন সম্পত্তি ব্যাংক নাকচ করতে পারে।
বেশি অগ্রিমই একমাত্র নগদের প্রয়োজন নয়। ক্রয়ের জন্য ঋণ পেলেও মূল্যায়ন ফি, ব্যাংকের চার্জ, কর ও আইনি খরচ নগদে দিতে হতে পারে।
বিদেশি ঋণগ্রহীতার বসবাসের অবস্থা এবং ভবিষ্যৎ আয় কতটা স্থায়ী তাও ব্যাংক দেখে। কেনার পরে সেখানে থাকতে যাওয়া ব্যক্তি এবং বিদেশে চাকরি বজায় রেখে অনাবাসী বিনিয়োগকারীর অবস্থা ব্যাংকের চোখে আলাদা। আবেদনের সব জায়গায় পরিকল্পিত বসবাসের তথ্য একরকম রাখুন।
গৃহঋণের খরচ ও সময়ের জন্য বাজেটে জায়গা রাখুন
মূল্যায়ন, ব্যাংকের ফি, বন্ধক নিবন্ধন, আইনি যাচাই ও বাধ্যতামূলক বীমায় লেনদেন শেষের খরচ অনেক বাড়তে পারে, এবং চূড়ান্ত অনুমোদনের আগেই কিছু দিতে হয়। বিদেশি ঋণে বেশি সময় লাগতে পারে; মূল্যায়ন বা বিনিময়হার বদলে প্রস্তাবিত অঙ্কও বদলাতে পারে। অর্থায়নে বাড়তি সময় ছাড়া চুক্তি করবেন না।
সুদের হার তুলনায় ঋণের মেয়াদ ও মুদ্রা একই ধরুন। বাধ্যতামূলক দামী বীমা, পরিবর্তনশীল সুদ বা রূপান্তরের খরচ থাকলে কম নামমাত্র সুদ বিভ্রান্তিকর হতে পারে।
ঋণ অনুমোদনের সময় ক্রয়চুক্তিকেও প্রভাবিত করে। ঋণ অপরিহার্য হলে মূল্যায়ন, পর্যালোচনা ও আইনি যাচাইয়ে ব্যাংকের বাস্তবে কত সময় লাগবে জেনে চুক্তির ঋণ-শর্ত ততদিন কার্যকর রাখুন। ব্যাংক যুক্তিসংগত সময়ে সিদ্ধান্ত দেওয়ার আগেই শর্ত শেষ হলে নামমাত্র ঋণসংক্রান্ত ধারা খুব কম সুরক্ষা দেয়।
ব্যাংকের প্রাথমিক ইঙ্গিত উপকারী, কিন্তু সেটি চূড়ান্ত ঋণপ্রস্তাব নয়। মূল্যায়ন, আইনি যাচাই ও সম্পত্তিনির্দিষ্ট শর্ত এখনও পূরণ করতে হবে। স্থানীয় প্রথায় অর্থায়ন-শর্ত রাখা সম্ভব হলে ক্রয়চুক্তিতে সেই অনিশ্চয়তা প্রতিফলিত হওয়া উচিত।
ভ্রমণের পরিকল্পনা করছেন?
SY.com-এ ফ্লাইট ও ভ্রমণের বিকল্প তুলনা করুন।
ফ্লাইট খুঁজুন