যে দেশে থাকেন না, সেখানে বাড়ি কেনার আগে যা জানবেন

অনেক দেশে অনাবাসীরাও সম্পত্তি কিনতে পারেন। তবে তাদের মালিকানার অধিকার, বন্ধকী ঋণ, কর এবং রিপোর্ট দাখিলের বিধান বাসিন্দাদের থেকে আলাদা হতে পারে।

অনাবাসী হিসেবে ওই ধরনের সম্পত্তি কিনতে পারবেন কি না, আগে নিশ্চিত করুন

যাচাই করুন, অনাবাসী ক্রেতা আপনার পছন্দের ধরনের বাড়ির মালিক হতে পারেন কি না; ঋণের অগ্রিম অংশ বা সুদের হার আলাদা কি না; অনাবাসীদের কর রিটার্ন ও উৎসে কর কাটার বিধান কী; এবং বাড়ির মালিকানা যে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বসবাসের অধিকার দেয় না, সেটিও মাথায় রাখুন।

সেই দেশের বাসিন্দা না হয়েও কেন বাড়ি চান—বিনিয়োগ, মাঝে মাঝে থাকা, পরিবারের আবাসন, নাকি ভবিষ্যতে যাওয়ার পরিকল্পনা—তা পরিষ্কার করুন। উদ্দেশ্য অনুযায়ী এলাকা, অর্থের ব্যবস্থা, পরিচালনা এবং কতটা প্রশাসনিক জটিলতা নেওয়া যুক্তিযুক্ত, তা বদলাবে।

বাড়ির ধরন বা অবস্থানের কারণে অনাবাসীদের মালিকানার বিধিনিষেধ ভিন্ন হতে পারে। অগ্রিম টাকা দেওয়ার আগেই যোগ্যতা যাচাই করুন; বিশেষ অনুমতি, স্থানীয় প্রতিনিধি, কর নম্বর কিংবা বিশেষ মালিকানা কাঠামো লাগবে কি না জেনে নিন।

স্থানীয় বিশ্বস্ত একজন সহযোগী কখনও ক্রয়দামের সামান্য পার্থক্যের চেয়েও বেশি মূল্যবান। দূরে থাকা মালিকের ছোট সমস্যা বড় ও ব্যয়বহুল হয়ে ওঠার আগেই সমাধান করার জন্য কাউকে প্রয়োজন।

অনাবাসী হওয়ার প্রভাব শুধু কেনার অনুমতিতে সীমিত নয়। ব্যাংকের চাওয়া কাগজপত্র, সম্ভাব্য মালিকানা কাঠামো এবং স্থানীয় পেশাজীবীরা কীভাবে লেনদেন সামলাবেন—সবই বদলাতে পারে। তাই বাড়ি পছন্দ করে অগ্রিম দেওয়ার পর নয়, তার আগেই বিষয়গুলো পরিষ্কার করুন।

মোট খরচ ও ঋণ পাওয়ার বাস্তব অবস্থা হিসাব করুন

অন্য দেশে বসবাস করার কারণেই যে বাড়তি ব্যয় হবে, তা ধরে বাজেট করুন। ব্যাংক ফি, স্থানীয় কর দাখিল, সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা, অনুবাদ, পাওয়ার অব অ্যাটর্নি, স্বাক্ষরের জন্য যাতায়াত এবং অনাবাসীর ওপর উৎসে কর—সব মিলিয়ে খরচ অনেক বেড়ে যেতে পারে।

অনাবাসীদের ঋণের শর্ত কঠোর হতে পারে: বেশি অগ্রিম অর্থ কিংবা বিদেশি আয় ও সম্পদের বিস্তারিত প্রমাণ চাইতে পারে। শুধু ঋণের মুদ্রায় নয়, আপনার আয়ের মুদ্রাতেও কিস্তির বাস্তব খরচ তুলনা করুন।

অনাবাসীর অর্থায়ন সবসময় সরল নয়। প্রত্যাশার চেয়ে ঋণ কম, ব্যয়বহুল বা দেরিতে পাওয়া গেলে কেনাকাটা সম্ভব থাকবে কি না, আগেই হিসাব করুন। এখনও নিশ্চিত নয় এমন ঋণের শর্তের ওপর ভর করে ক্রয়চুক্তিতে স্বাক্ষর করবেন না।

দূরে থেকে সম্পত্তি চালাতে হলে সাধারণ প্রশাসনিক কাজও গুরুত্বপূর্ণ, কারণ ছোটখাটো সমস্যা সামলাতে নিজে হাজির হওয়া যায় না। বাড়ি হাতে পাওয়ার আগে ঠিক করুন সরকারি চিঠি কে নেবে, ঝড় বা পানির লিকের পর বাড়ি কে দেখবে, স্থানীয় বিল কে দেবে, ঠিকাদারদের সঙ্গে কে যোগাযোগ করবে। বিশ্বস্ত স্থানীয় ব্যবস্থা মালিকানার মূল পরিকল্পনার অংশ, পরে যোগ করা বিলাসিতা নয়।

বাসিন্দা ক্রেতার মতোই দলিল ও ভবন পরীক্ষা করুন

দূরে থাকলে স্বাধীন যাচাই আরও জরুরি। বিক্রেতার নিযুক্ত এজেন্টের কথায় নির্ভর না করে মালিকানার দলিল, জমির সীমানা, সম্পত্তির ওপর ঋণ বা দেনা, নির্মাণ অনুমোদন এবং বিক্রেতার বিক্রির অধিকার যাচাই করুন। এজেন্টের পারিশ্রমিক সাধারণত বিক্রি সম্পন্ন হওয়ার ওপর নির্ভর করে।

দূরত্ব যথাযথ যাচাইয়ের গুরুত্ব কমায় না, বাড়ায়। ক্রেতা চূড়ান্তভাবে বাধ্য হওয়ার আগেই স্বাধীনভাবে দলিল, প্রকৌশলগত অবস্থা, নির্মাণ রেকর্ড, সংশ্লিষ্ট দেনা বা অনুমোদনহীন পরিবর্তন খতিয়ে দেখতে হবে। স্থানীয় প্রতিনিধি কাগজপত্র সামলাতে পারেন, কিন্তু কী সত্যিই যাচাই হয়েছে তা ক্রেতাকে নিজে বুঝতে হবে।

আপনি বিদেশে থাকাকালে বাড়ির দেখাশোনার ব্যবস্থা করুন

বাড়ি কেনা সাধারণত অভিবাসনের নিয়ম বাতিল করে না। দীর্ঘদিন সেখানে থাকতে চাইলে ভিসা বা বসবাসের সুযোগ আলাদাভাবে যাচাই করুন। ভবিষ্যতে থাকার অনুমতি পাবেন—এমন অনুমানের ওপর সম্পত্তির পরিকল্পনা গড়বেন না।

সম্পত্তি পরিচালনা বিনিয়োগেরই অংশ, পরে ভাবার বিষয় নয়। আপনার অনুপস্থিতিতে কে চিঠি নেবে, বিল দেবে, জরুরি সমস্যায় যাবে, মেরামত তদারক করবে ও ভাড়াটিয়ার সঙ্গে কাজ করবে—নির্ধারণ করে সেই সেবার খরচ হিসাব করুন।

দূরত্ব ছোট মালিকানাসংক্রান্ত সমস্যাকেও বড় করে। নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ, করের নোটিশ, ভবনের সভা বা জরুরি মেরামত—নিজে উপস্থিত না থাকলে সব কঠিন হয়। তাই বাস্তব পরিকল্পনায় স্থানীয়ভাবে কে কাজ করবে, তার কী ক্ষমতা লাগবে এবং খরচ মালিক কীভাবে যাচাই করবেন, তা উল্লেখ থাকতে হবে। মাঝে মাঝে এসে সব সামলানো যাবে—এমন ধরে নেবেন না।

বিদেশ থেকে ব্যাংকিং ও করের কাজও জটিল হতে পারে। কোনো কোনো লেনদেনে স্থানীয় ব্যাংক হিসাব, পরিচয় নম্বর বা প্রতিনিধি দরকার হয়। পরে বাড়ি বিক্রির টাকা অন্য দেশে পাঠালে অর্থের উৎস নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। প্রথম দিন থেকেই চুক্তি, করের রসিদ, ইনভয়েস ও ব্যাংক নথি স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করুন। বহু বছর পরে এসব আবার জোগাড় করা অনেক কঠিন।

বাড়ি বুঝে পাওয়ার আগেই বিক্রির পথ ঠিক করুন

কেনার সময়ই ভবিষ্যৎ বিক্রির কথা ভাবুন। অনাবাসী বিক্রেতার ওপর কী কর পড়ে, বিক্রির অর্থ স্বাধীনভাবে বিদেশে পাঠানো যায় কি না এবং ভবিষ্যৎ ক্রেতা আপনার কাছে কোন কাগজপত্র চাইবেন—জেনে নিন।

স্থানীয় বাসিন্দার তুলনায় অনাবাসী বিক্রেতার জন্য উৎসে কর, কর পরিশোধের ছাড়পত্র বা ব্যাংকিং পদ্ধতি আলাদা হতে পারে। বিদেশ থেকে কাগজপত্র আনতে হলে বিক্রিতেও দেরি হতে পারে। কেনার সময় প্রক্রিয়াটি বুঝে রাখলে পরে বিক্রির জন্য প্রয়োজনীয় নথি ঠিকভাবে জমিয়ে রাখা সহজ হয়।

ভ্রমণের পরিকল্পনা করছেন?

SY.com-এ ফ্লাইট ও ভ্রমণের বিকল্প তুলনা করুন।

ফ্লাইট খুঁজুন