বিক্রির বিজ্ঞাপন দেওয়ার আগেই আইনি নথি প্রস্তুত করুন
বিদেশের সম্পত্তি বাজারে তোলার আগে মূলধনী লাভ ও স্থানীয় হস্তান্তর কর, অনাবাসিক বিক্রেতার উৎসে কর্তন বা ছাড়পত্র, আন্তর্জাতিক টাকা পাঠাতে অর্থের উৎসের প্রমাণ এবং নিজের দেশে প্রতিবেদন ও বিনিময় হারের প্রভাবের প্রস্তুতি নিন।
বিক্রি শুরুর সময় নির্ধারণ করুন কোনটি বেশি গুরুত্বপূর্ণ: দ্রুত বিক্রি, ভালো দাম, মুদ্রামূল্য নিশ্চিত থাকা নাকি স্থানান্তরের সময়মতো লেনদেন। এতে দাম নির্ধারণ, এজেন্ট বাছাই এবং ঋণ নিয়ে কিনবেন এমন ক্রেতার জন্য অপেক্ষা করার সিদ্ধান্ত বদলায়।
বাজারে তোলার আগে মালিকানা দলিল, মালিকানার কাঠামো ও বিক্রেতার নথি প্রস্তুত কি না নিশ্চিত করুন। নিবন্ধনের ঘাটতি, পুরোনো পাওয়ার অব অ্যাটর্নি, উত্তরাধিকার বিরোধ বা কোম্পানির কাগজপত্রের সমস্যা ক্রেতা পাওয়ার পরও বিক্রি আটকে দিতে পারে।
বাড়ি ও আইনি নথি একসঙ্গে প্রস্তুত করুন। ক্রেতা ও তাঁর আইনজীবী নির্মাণ অনুমোদন, রক্ষণাবেক্ষণ ফি, করের রসিদ, জ্বালানি-দক্ষতার নথি বা ভাড়ার রেকর্ড চাইতে পারেন। আগে জোগাড় করলে অপ্রয়োজনীয় নতুন করে দামাদামি কমে।
আন্তর্জাতিক বিক্রিতে প্রস্তাব গ্রহণের পরে ক্রেতার আইনজীবী মালিকানা, নির্মাণ বা করের নথির ঘাটতি খুঁজে পেলে প্রক্রিয়া প্রায়ই ধীর হয়। আগে নথি তৈরি করলে চূড়ান্ত নিষ্পত্তির সময়সীমার চাপে না পড়ে সমস্যা শনাক্ত ও সংশোধনের সুযোগ থাকে।
বিজ্ঞাপনের দাম নয়, নিট প্রাপ্তি হিসাব করুন
শুধু প্রচারিত বিক্রয়মূল্য দেখে আনন্দিত না হয়ে নিট প্রাপ্তি হিসাব করুন। এজেন্ট কমিশন, আইনজীবীর ফি, কর, বন্ধকি ঋণ পরিশোধ, সনদ, মেরামত, মুদ্রা বিনিময় ও ব্যাংক খরচ—সব মিলিয়ে শেষ পর্যন্ত হাতে আসা টাকা কমে।
বিক্রেতার সিদ্ধান্ত নির্ভর করা উচিত কমিশন, আইনজীবী, কর, ঋণ ও মুদ্রা বিনিময়ের পরে থাকা অর্থের ওপর। পরের বাড়ি কেনা বা দেশে পাঠানোর জন্য ব্যবহারযোগ্য অঙ্ক এটিই। কাঙ্ক্ষিত নিট অর্থ ধরে উল্টো হিসাব করলে বাস্তবসম্মত সর্বনিম্ন দামও ঠিক করা সহজ হয়।
বাড়ির বিজ্ঞাপন দেওয়ার আগেই বিক্রির প্রস্তুতি শুরু করা উচিত। অনুপস্থিত অনুমতি, পুরোনো দলিলের গরমিল, অপরিশোধিত স্থানীয় পাওনা বা অসম্পূর্ণ সংস্কারের নথি ক্রেতা পাওয়ার পরে দরকষাকষির বিষয় হতে পারে। নিজের নিয়ন্ত্রণে থাকা সমস্যা আগে সমাধান করুন যাতে শেষ পর্যায়ে নথির জন্য দেরি না হয়।
বিক্রিতে সম্মতির পরও মুদ্রার হার ফল বদলে দিতে পারে
বিক্রয়ের টাকা অন্য মুদ্রায় বদলাতে হলে কতটা বিনিময় হারের ঝুঁকি নিতে চান আগেই ঠিক করুন। প্রস্তাব গ্রহণ, লেনদেন সম্পন্ন হওয়া এবং অর্থ দেশে পাঠানোর মধ্যে আর্থিক ফল বদলে যেতে পারে।
প্রস্তাব গ্রহণ থেকে ব্যাংকে নিষ্পত্তিকৃত অর্থ পৌঁছাতে কয়েক সপ্তাহ বা মাস লাগতে পারে; এ সময় বিনিময় হারের ঝুঁকি থাকে। শেষ পর্যন্ত অন্য মুদ্রা দরকার হলে বিক্রির শেষ মুহূর্তের চাপে সিদ্ধান্ত না নিয়ে আগে ঠিক করুন ঝুঁকিতে কতটা স্বচ্ছন্দ এবং রূপান্তরের খরচ কীভাবে তুলবেন।
ভাড়াটিয়া ও বসবাসের বিষয় পৃথকভাবে সামলান
সম্পত্তি বিক্রি হলেই বসবাসের অনুমতি বা কর-বাসিন্দার মর্যাদার প্রশ্ন শেষ হয় না। বিক্রি যদি দেশ ছেড়ে যাওয়ার সঙ্গে যুক্ত হয়, তাহলে সম্পন্ন হওয়ার পরও অনুমতি, নিবন্ধন বা স্থানীয় করের দায় বহাল থাকবে কি না আলাদাভাবে দেখুন।
ভাড়াটিয়া থাকা সম্পত্তির জন্য আলাদা পরিকল্পনা দরকার। ভাড়ার চুক্তি নতুন মালিকের কাছে যাবে কি না, খালি অবস্থায় হস্তান্তর করতে হবে কি না এবং জামানত, নোটিশের সময় ও বিক্রি সম্পন্ন হওয়া পর্যন্ত ভাড়া কীভাবে হিসাব হবে তা নিশ্চিত করুন।
বিক্রেতাকে অর্থের গতিপথের নথিও পরিকল্পনা করতে হবে। বড় আন্তর্জাতিক টাকা পাওয়া ব্যাংক বিক্রয়চুক্তি, মালিকানার প্রমাণ, করের নথি এবং সম্পত্তি প্রথম কীভাবে কেনা হয়েছিল তার কাগজ চাইতে পারে। সব একসঙ্গে রাখলে বৈধ বিক্রির অর্থও অর্থপাচার প্রতিরোধী যাচাইয়ে আটকে যাওয়ার আশঙ্কা কমে।
বিক্রয়লব্ধ অর্থ স্থানান্তরের পরিকল্পনা আগেই করুন
স্বাক্ষরের আগে জানুন অর্থ কীভাবে নিজ দেশে নিয়ে যেতে পারবেন এবং গ্রহণকারী ব্যাংক কোন প্রমাণ চাইতে পারে। প্রথম কেনার সময়কার ক্রয়নথি ও করের কাগজ রেখে দিলে শেষ স্থানান্তর অনেক সহজ হতে পারে।
বিক্রেতা যেখানে অর্থ ব্যবহার করবেন সেখানে টাকা না পৌঁছানো পর্যন্ত বিক্রি আর্থিকভাবে শেষ নয়। ব্যাংক আসল ক্রয়, বিক্রয়চুক্তি ও প্রদত্ত করের প্রমাণ চাইতে পারে, আর মুদ্রা বিনিময় শেষ অঙ্ক বদলে দেয়। লেনদেন সম্পন্ন হওয়ার আগে এই নথির শৃঙ্খল প্রস্তুত রাখলে বড় স্থানান্তর আটকে যাওয়ার ঝুঁকি কমে।
ভ্রমণের পরিকল্পনা করছেন?
SY.com-এ ফ্লাইট ও ভ্রমণের বিকল্প তুলনা করুন।
ফ্লাইট খুঁজুন