বিদেশে সম্পত্তি বিক্রির সময় মূলধনি মুনাফার কর

বিদেশি সম্পত্তির করযোগ্য মুনাফা সাধারণত বিক্রয়মূল্য থেকে ক্রয়মূল্য বিয়োগ করার চেয়ে জটিল। স্থানীয় নিয়ম ঠিক করে কোন খরচ, উন্নয়ন ও ছাড় গণনায় আসবে। অনুমোদিত ক্রয়খরচ, উন্নয়নের ব্যয়, মুদ্রা রূপান্তর এবং কর-নিবাসের অবস্থা—সবই চূড়ান্ত অঙ্ক বদলে দিতে পারে।

প্রথমে সম্পত্তি যে দেশে আছে, সেখানকার মুনাফার হিসাব দেখুন

কোন ক্রয়খরচ, স্থায়ী উন্নয়ন ও বিক্রয়ের ব্যয় করভিত্তির সঙ্গে যোগ করা যায় এবং দাবি করতে কী প্রমাণ রাখতে হবে, নিশ্চিত করুন। একই ধরনের সম্পত্তি বিক্রি করলেও অনাবাসী বিক্রেতার করহার, ছাড়, উৎসে কর্তন বা রিটার্ন দাখিলের নিয়ম বাসিন্দা মালিকের থেকে আলাদা হতে পারে। বাড়িটি নিজের বসবাসে ব্যবহার করলে নিজের দেশের প্রধান বাসস্থানের ছাড় প্রযোজ্য ধরে না নিয়ে স্থানীয় সংজ্ঞা, থাকার সময় ও দাখিলের শর্ত দেখুন।

করযোগ্য মুনাফা ক্রয় ও বিক্রয়মূল্যের সরল পার্থক্য থেকে অনেক আলাদা হতে পারে। কোন ক্রয়খরচ, উন্নয়নের বিল, সম্পত্তি হস্তান্তরের কর ও বিক্রয়ব্যয় বাদ দেওয়া যাবে তা স্থানীয় আইন নির্ধারণ করে; মূল্যস্ফীতি ও কর-নিবাসও গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। বিক্রির প্রস্তাব আসার পরে পুরোনো হিসাব পুনর্গঠন না করে মালিকানার পুরো সময় নথি সংরক্ষণ করুন।

কিছু করব্যবস্থায় বিক্রয়ের খরচ করভিত্তিতে গণ্য হয়, অন্য ব্যবস্থায় হয় না। আইনি ফি, এজেন্টের কমিশন ও প্রমাণিত স্থায়ী উন্নয়নের ব্যয় আলাদা নথিভুক্ত করুন, যাতে উপদেষ্টা লেনদেন নতুন করে সাজানো ছাড়াই কোনটি দাবি করা যায় বুঝতে পারেন।

মুদ্রার বিনিময়হার ও উৎসে কর্তন হাতে পাওয়া টাকা বদলে দেয়

নিজের দেশের কর রিটার্নে ক্রয় ও বিক্রয়ের মূল্য অন্য মুদ্রায় হিসাব করা হতে পারে; ফলে স্থানীয় মুদ্রায় গণনা করা মুনাফার সঙ্গে করযোগ্য ফল মেলে না। কোনো কোনো দেশে ক্রেতা বা লেনদেন সম্পন্নকারী এজেন্ট বিক্রেতার করের অগ্রিম হিসেবে দামের একটি অংশ ধরে রাখেন; পরবর্তী রিটার্নে চূড়ান্ত কর নির্ধারিত হয়।

সীমান্তপারের বিক্রেতাকে চূড়ান্ত করের পাশাপাশি কখন হাতে টাকা আসবে তাও হিসাব করতে হবে। অনাবাসীর ক্ষেত্রে প্রকৃত কর কম হলেও বিক্রয়মূল্যের অংশ উৎসে কেটে রাখা হতে পারে, পরে ফেরতের আবেদন করতে হয়। অন্য দেশেও মুনাফার ওপর কর লাগলে চুক্তির ছাড় পেতে দ্বিতীয় রিটার্ন লাগতে পারে। তাই বাজেটে মোট বিক্রয়প্রাপ্তি, সাময়িক কর্তন ও কর-পরবর্তী হাতে থাকা অর্থ আলাদা করুন।

বিক্রির সময়ের কাছাকাছি দেশ বদলানো বিক্রেতার কর-নিবাস বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। সম্পত্তি অপরিবর্তিত থাকলেও কর-নিবাস বদলালে রিটার্নের পদ্ধতি, করচুক্তির ছাড় বা উৎসে কর্তন বদলে যেতে পারে।

করচুক্তির সুবিধা পেতে একাধিক রিটার্ন দিতে হতে পারে

যে দেশে সম্পত্তি আছে, সেই দেশ সাধারণত স্থাবর সম্পত্তির মুনাফায় কর বসাতে পারে। একই সঙ্গে মালিকের কর-নিবাসের দেশেও তা জানাতে হতে পারে এবং দেশীয় আইন বা করচুক্তি অনুযায়ী করছাড় বা ক্রেডিট মিলতে পারে।

সংস্কার বা স্থায়ী উন্নয়নের প্রমাণ কাজ শেষ হওয়ার বহু বছর পরেও মূল্যবান। ঠিকাদারের বিল, অনুমতি ও অর্থপ্রদানের প্রমাণ স্থায়ী সম্পত্তি-ফাইলে রাখুন, কারণ কর কর্তৃপক্ষ নথিবিহীন উন্নয়ন ব্যয় করভিত্তিতে যোগ করতে নাও দিতে পারে।

করবর্ষের শুরু-শেষ মাথায় রেখে বিক্রির তারিখ গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে, বিশেষত ছাড়, কর-নিবাস বা অন্য মুনাফা থাকলে। শুধু করের জন্য বাজারের বাস্তব সিদ্ধান্ত বদলানো উচিত নয়, তবে সময়ের সুযোগ থাকলে চূড়ান্ত তারিখে রিটার্ন বা পরিশোধ বদলাবে কি না, আগে জেনে নিন।

বাজারে বিক্রির বিজ্ঞাপন দেওয়ার আগেই করের প্রমাণ সাজান

বিক্রির প্রক্রিয়া শুরু করার আগেই ক্রয়ের দলিল, বিল ও উন্নয়নের নথি জোগাড় করুন, যাতে নিট দাম নিয়ে দরকষাকষির সময় করের অবস্থান জানা থাকে।

স্থানীয় মুদ্রায় দাম অপরিবর্তিত মনে হলেও বিনিময়হারের কারণে নিজের দেশে করযোগ্য মুনাফা হতে পারে। বিদেশি মুদ্রার দাম কম থাকাকালে কেনা এবং বেশি থাকাকালে বিক্রি করলে রূপান্তরের পরে সম্পূর্ণ ভিন্ন ফল দেখা দিতে পারে।

স্থায়ী উন্নয়নের কাজ করার সময় থেকেই তার প্রমাণ রাখুন। বহু বছর পরে বর্ধিত করভিত্তি দেখাতে বিল, অনুমতি ও অর্থপ্রদানের রসিদ চাইতে পারে। নথি না থাকলে মালিক সত্যিই সংস্কারে টাকা খরচ করলেও বৈধ ব্যয় দাবি করা কঠিন হতে পারে।

ভ্রমণের পরিকল্পনা করছেন?

SY.com-এ ফ্লাইট ও ভ্রমণের বিকল্প তুলনা করুন।

ফ্লাইট খুঁজুন