সব ‘ব্রিটিশ দ্বীপপুঞ্জ’ ক্রুজের পথ এক নয়
‘ব্রিটিশ দ্বীপপুঞ্জ’ লেখা থাকলেই একই ভূখণ্ড ঘোরা হবে ভাববেন না। কোনো পথে স্কটল্যান্ড ও আয়ারল্যান্ড বেশি, অন্যটিতে ইংল্যান্ড, ওয়েলস, চ্যানেল দ্বীপপুঞ্জ বা উত্তর ইউরোপের বন্দরও থাকে। প্রকৃত বন্দর ও রাতে কোথায় থাকবেন মিলিয়ে দেখুন; জায়গাগুলো কি এমন, যেখানে আলাদা করে যেতে আপনি সময় ও পরিশ্রম করতেন? বসন্ত থেকে শরতের শুরুর দিক পর্যন্ত বেশির ভাগ ক্রুজ চলে, তবে যে কোনো মাসেই আবহাওয়া বদলাতে পারে।
গ্রীষ্মের দীর্ঘ দিনের আলো ঘোরার সুবিধা দেয়; মূল মৌসুমের বাইরের তারিখে ভিড় ও ভাড়া কম হতে পারে। পূর্বাভাস ভালো হলেও বৃষ্টি ও বাতাসের প্রস্তুতি নিন। নিখুঁত আবহাওয়ার সপ্তাহ খোঁজার চেয়ে প্রস্তুত থাকা বেশি কার্যকর। বন্দরগুলোর ক্রমও জরুরি; প্রচারপত্রে যে বিখ্যাত শহরের নাম থাকে, জাহাজ অনেক সময় সেখানে সরাসরি ভেড়ে না।
লন্ডন, এডিনবরা কিংবা বড় আকর্ষণের শহরে পৌঁছাতে ঘাট থেকে বেশ দূর যেতে হতে পারে। নাম কম পরিচিত হলেও বন্দর কাঙ্ক্ষিত স্থানের কাছে হলে তীরে কার্যকরভাবে বেশি সময় কাটাতে পারবেন।
ব্রিটিশ দ্বীপপুঞ্জের পথে বড় শহরের পাশাপাশি এমন ছোট বন্দর থাকে, যেগুলো স্থলপথে এক সফরে যুক্ত করা কঠিন। এখানেই ক্রুজের লাভ: প্রতিবার লাগেজ খোলা-গোছানো ছাড়াই বিভিন্ন অঞ্চল দেখা যায়।
ব্রিটিশ দ্বীপপুঞ্জে জাহাজে ওঠা ও নামার পরিকল্পনা
সাউদাম্পটন, ডোভার ও অন্যান্য যাত্রাশুরুর বন্দর অনুযায়ী বিমানবন্দর ও রেলের পরিকল্পনা আলাদা হবে। বিদেশ থেকে উড়ে এলে আগের দিন পৌঁছানো বিঘ্ন সামলাতে সাহায্য করে এবং জাহাজে ওঠার সকাল শান্ত রাখে। নির্দিষ্ট টার্মিনাল যাচাই করুন; বড় বন্দরের আলাদা স্থাপনায় লাগেজ নিয়ে হেঁটে যাওয়া সম্ভব নাও হতে পারে। কিছু শহর নিজে ঘোরা সহজ; দুর্গ, গ্রামীণ দৃশ্য কিংবা ডিস্টিলারি দেখতে দীর্ঘ যাতায়াত লাগতে পারে।
দূরের কোনো ভ্রমণ বাছার আগে যাওয়া-আসার মোট সময় হিসাব করুন। কয়েক ঘণ্টা বাসে কাটিয়ে ঠাসা কর্মসূচির চেয়ে বন্দরশহরেই ধীরে ঘুরে বেশি অভিজ্ঞতা হতে পারে। এসব পথে বন্দরে অনেক সময় কাটানো হয় বলে সমুদ্রে কাটানো দিনের বিলাসী বিনোদনের চেয়ে জাহাজের অবস্থান, আরাম ও সহজে ওঠানামার ব্যবস্থা বেশি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। ঠান্ডা বা বৃষ্টিতে ভেতরের পর্যবেক্ষণস্থান কাজে দেয়। দৃশ্য ভালোবাসলে শুধু বড় কেবিনের জন্য বেশি না দিয়ে সবার ব্যবহারের জানালা ও খোলা ডেক কোথায় দেখুন।
যুক্তরাজ্য ও আয়ারল্যান্ডে তীরে ঘোরার খরচ বেশি হতে পারে
যুক্তরাজ্য ও আয়ারল্যান্ডে বিশেষত বিখ্যাত আকর্ষণ বন্দর থেকে দূরে হলে ভ্রমণের খরচ বেশি হতে পারে। প্রচারিত ভাড়ার সঙ্গে যাতায়াত, পানীয়, বকশিশ এবং ক্রুজের আগের আবাসন যোগ করুন। কোথাও নিজে ট্রেন বা ট্যাক্সিতে যাওয়া সহজ, আবার সময় কম বা প্রবেশ জটিল হলে সংগঠিত ভ্রমণ ভালো। ক্রুজ অনেক জায়গার স্বাদ দেয়, গভীরভাবে থাকার সুযোগ নয়।
বন্দরে সন্ধ্যা কাটানোর সময় সীমিত হতে পারে; কিছু গন্তব্যে স্থলে কয়েক দিন থাকা উচিত। লন্ডন, এডিনবরা, ডাবলিন বা অন্য শহর সফরের বড় কারণ হলে একবার জাহাজ থামার সময়ের ওপর নির্ভর না করে আগে কিংবা পরে সেখানে রাত কাটান।
আবহাওয়াকে ‘খারাপ’ না ভেবে পরিবর্তনশীল ভাবুন। যে কোনো সময় বাতাস ও বৃষ্টি আসতে পারে, আবার দীর্ঘ দিনের আলো ও উপকূলের বদলাতে থাকা দৃশ্যও আকর্ষণ। নিখুঁত পূর্বাভাসের পেছনে না ছুটে স্তরযুক্ত ও জলরোধী পোশাক রাখুন।
ক্রুজের পরিকল্পনা করছেন?
CruiseDirect-এ ক্রুজের পথ ও বর্তমান অফার তুলনা করুন।
ক্রুজ খুঁজুন