জ্বালানি ও গ্রিনহাউস গ্যাসের নির্গমন বড় বিষয়
বিশাল যাত্রীবাহী জাহাজ চালাতে প্রচুর শক্তি লাগে, তাই জ্বালানি খরচ ও গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন মূল সমস্যা। তথ্য পাওয়া গেলে মোট নির্গমন এবং যাত্রীপ্রতি দক্ষতা—দুটিই তুলনা করুন। একটি সূচকে উন্নতি মানে সব দিক থেকে জাহাজের প্রভাব কম নয়। ক্রুজের পরিচালনা তুলনায় জ্বালানি ব্যবহার ও গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন সবচেয়ে বড় পরিবেশগত বিষয়।
অপেক্ষাকৃত পরিচ্ছন্ন জ্বালানি সালফার অক্সাইড বা ধূলিকণার দূষণ কমাতে পারে, কিন্তু জলবায়ুর ওপর প্রভাব জ্বালানি ও প্রযুক্তিনির্ভর। যেমন তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজিতে মিথেন বেরিয়ে যাওয়ার উদ্বেগ আছে। ‘পরিচ্ছন্ন’ কথাটিকে নির্দিষ্ট দূষক কমানোর দাবি হিসেবে দেখুন, কার্বনশূন্য ক্রুজের সমার্থক নয়। জাহাজ ও বন্দরে উপযুক্ত ব্যবস্থা থাকলে ঘাটে দাঁড়ানো অবস্থায় স্থলবিদ্যুৎ ব্যবহার করে স্থানীয় ইঞ্জিনের নির্গমন কমানো যায়।
জলবায়ুতে তার লাভ নির্ভর করে বিদ্যুৎ কীভাবে তৈরি হচ্ছে তার ওপরও। জাহাজ স্থলবিদ্যুৎ নিতে সক্ষম হলেই পথে প্রতিটি বন্দরে সংযোগ পাওয়া যাবে না। জাহাজ ও টার্মিনালে ব্যবস্থা থাকলে ঘাটে স্থানীয় দূষণ কমে; সমুদ্রে চলার সময়ের নির্গমন তাতে দূর হয় না।
ক্রুজের পরিবেশগত প্রভাব একটিমাত্র বিষয় নয়। জ্বালানির নির্গমন, বর্জ্যপানি, কঠিন বর্জ্য ও ভিড়ের গন্তব্যে চাপ—সবই গুরুত্বপূর্ণ। এক দিকে উন্নতি অন্য সমস্যাগুলো মুছে দেয় না।
যাত্রীবাহী জাহাজে নানা ধরনের বর্জ্য তৈরি হয়
যাত্রীবাহী জাহাজে পয়োনিষ্কাশনের ময়লা, দৈনন্দিন ব্যবহারের দূষিত পানি, খাবারের উচ্ছিষ্ট ও কঠিন বর্জ্য তৈরি হয়; প্রতিটির পরিশোধন ও নিষ্পত্তির পদ্ধতি আলাদা। বিধিতে ন্যূনতম মান নির্ধারিত হলেও সংস্থার কাজের ধরন ও যন্ত্রপাতি বদলায়। ‘টেকসই’ তকমার বদলে বর্জ্যের পরিমাণ, পরিশোধনের পদ্ধতি ও কোথায় কীভাবে নিষ্কাশন হয় তা ব্যাখ্যা করলে পরিবেশ-প্রতিবেদন বেশি কাজে দেয়। গন্তব্যের ওপর চাপও এর অংশ।
একসঙ্গে হাজার হাজার যাত্রী নামলে জাহাজ বেশি দক্ষ হলেও স্থানীয় রাস্তা, পানি, যানবাহন ও ঐতিহাসিক কেন্দ্রের ওপর চাপ পড়ে। বন্দরে সীমা, দর্শনার্থী ব্যবস্থাপনা এবং কত বড় জাহাজ ভিড়তে পারবে—এসব স্থানীয় প্রভাব অনেক বদলায়। বিশেষ করে অল্প সময়ে বিপুল যাত্রী নামলে গন্তব্য ও বন্দরের ওপর চাপ পরিবেশগত হিসাবের বড় অংশ।
দক্ষতার দাবি কোন ভিত্তি ও কোন একক ধরে করা, তা বলতে হবে। নতুন জাহাজে যাত্রীপ্রতি জ্বালানি কম লাগলেও বেশি যাত্রী বহনের কারণে মোট প্রভাব বড় হতে পারে। কোন কাজ ও কোন সময়ের সঙ্গে শতাংশের উন্নতি তুলনা করা হচ্ছে না জানলে সেই অঙ্কের তাৎপর্য বোঝা যায় না।
ক্রুজের পরিবেশগত প্রভাব: বিধিনিয়ম ও প্রযুক্তি
বিধিনিয়ম, বন্দরের বিনিয়োগ ও নতুন জাহাজের প্রযুক্তি ধীরে ধীরে শিল্পকে বদলাচ্ছে। নতুন জাহাজে স্থলবিদ্যুৎ সংযোগ বা উন্নত বর্জ্যপানি শোধনব্যবস্থা পুরোনোগুলোর চেয়ে দ্রুত যোগ করা যায়, কিন্তু জাহাজবহর কয়েক দশক চলতে থাকে। একটি আধুনিক জাহাজ দেখে পুরো শিল্প একইভাবে চলছে ভাবা ভুল। বিধি ও প্রযুক্তি একসঙ্গে বদলাচ্ছে; তাই সারা শিল্পে একই মান আছে ধরে না নিয়ে বর্তমান সংস্থা ও জাহাজের তথ্য দেখুন।
যাত্রীরা জাহাজের নকশা নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন না, তবু কিছু ছোট সিদ্ধান্ত নিতে পারেন: অপ্রয়োজনীয় উড়ান কমানো, অপচয় এড়ানো, স্বচ্ছ পরিবেশ-প্রতিবেদন দেওয়া সংস্থা বাছা এবং ভিড়ের গন্তব্যে দায়িত্বশীলভাবে খরচ করা। এতে শিল্পের সামগ্রিক নির্গমন সমস্যার সমাধান হয় না, কিন্তু নিজের সফরের এড়ানো সম্ভব এমন প্রভাব কমানো যায়।
নতুন প্রযুক্তি কিছু ক্ষতি কমাতে পারে, কিন্তু ক্রুজকে পরিবেশগত প্রভাবমুক্ত করে না। জাহাজ তুলনায় শুধু বড় ‘পরিবেশবান্ধব’ কথার বদলে জ্বালানি ব্যবস্থা, স্থলবিদ্যুৎ ব্যবহার ও বর্জ্যপানি শোধনের বাস্তব ব্যবস্থা দেখুন।
ক্রুজের পরিকল্পনা করছেন?
CruiseDirect-এ ক্রুজের পথ ও বর্তমান অফার তুলনা করুন।
ক্রুজ খুঁজুন