ভ্রমণের সময় ফোন ও মানিব্যাগ নিরাপদে বহন করবেন যেভাবে

ভ্রমণের সময় ফোন ও মানিব্যাগ বারবার ব্যবহার করতে হয়। তাই হোটেলের সেফে পড়ে থাকা মূল্যবান জিনিসের তুলনায় এগুলো বেশি ঝুঁকিতে থাকে। নিরাপদ রাখার পদ্ধতি এমন হওয়া উচিত যাতে চুরি ও ভুলে হারানো—দুটিই কমে, অথচ স্বাভাবিক ঘোরাঘুরি কঠিন না হয়।

প্রতিটি জিনিসের জন্য নির্দিষ্ট জায়গা ঠিক করুন

ফোনের জন্য বন্ধ পকেট, চেন দেওয়া অংশ বা নিরাপদ ব্যাগের একটি নির্দিষ্ট জায়গা বেছে নিন, মানিব্যাগের জন্য আরেকটি। তারপর নিয়মিত সেখানেই রাখুন। জ্যাকেটের পকেট, ব্যাগ ও টেবিলের মধ্যে যত ঘন ঘন জিনিস বদলান, ভুলে যাওয়ার সম্ভাবনা তত বাড়ে। পেছনের পকেট ও খোলা টোট ব্যাগ ব্যবহারকারীর জন্য যেমন সুবিধার, ভিড়ে চোরের জন্যও তেমনই।

টাকার বিকল্প ব্যবস্থা ভাগ করে রাখুন

সব কার্ড ও সমস্ত নগদ একই মানিব্যাগে বহন করবেন না। আলাদা রাখা দ্বিতীয় পেমেন্টের উপায় মানিব্যাগ চুরি হলেও আর্থিক সংকট ঠেকাতে পারে। দিনের মানিব্যাগে যতটা ব্যবহারের সম্ভাবনা আছে রাখুন; বাড়তি কার্ড ও বেশি নগদ অন্যত্র রাখুন। এতে একটি কার্ড বাতিল করলেও যাতায়াত বা হোটেলের বিল দেওয়ার সব উপায় হারিয়ে যায় না।

ভিড়ের মধ্যে বুঝেশুনে ফোন ব্যবহার করুন

মানচিত্র ও টিকিটের জন্য ফোন বারবার বের করা লাগে। সম্ভব হলে পথের এক পাশে সরে দাঁড়ান; দরজার মুখে, প্ল্যাটফর্মের ধারে বা মানুষের স্রোতের মধ্যে দাঁড়িয়ে স্ক্রিন দেখবেন না। পথ দেখে ফোন এক হাতে আলগাভাবে না ধরে গুছিয়ে রাখুন। ক্যাফে ও রেস্তোরাঁয় টেবিলের ধারে ফোন ফেলে রাখবেন না; মনোযোগ সরিয়ে দ্রুত চুরি হতে পারে।

ফোন হারানোর আগেই প্রস্তুতি নিন

স্ক্রিন লক, ডিভাইস শনাক্ত ও দূর থেকে তথ্য মুছে দেওয়ার ব্যবস্থা চালু রাখুন; গুরুত্বপূর্ণ ছবি ও সফরের তথ্য ব্যাকআপ করুন। হারানো ফোনটি ছাড়াই মোবাইল অপারেটর ও জরুরি অ্যাকাউন্টে কীভাবে যোগাযোগ করবেন জেনে রাখুন। যন্ত্র আবার কেনা যায়, কিন্তু ইমেইল, ব্যাংকিং ও পরিচয় যাচাইয়ের অ্যাক্সেস হারানোই প্রায়শ সমস্যাটাকে বড় করে।

স্বস্তি জরুরি, কারণ অভ্যাস দীর্ঘদিন ধরে রাখতে হবে

অস্বস্তিকর নিরাপত্তাব্যবস্থা মানুষ একসময় ব্যবহার বন্ধ করে দেয়। শরীরের আড়াআড়ি ঝোলানো ব্যাগ, জ্যাকেটের ভেতরের পকেট, মানি বেল্ট বা চেন দেওয়া দিনের ব্যাগ—সবই কাজে লাগতে পারে; সবার জন্য একটি পদ্ধতিই সেরা নয়। সারাদিন স্বাভাবিকভাবে ব্যবহার করতে পারবেন এমন জিনিস বেছে নিন। সবচেয়ে ভালো অভ্যাস সাধারণত একঘেয়ে: কম জিনিস বহন, চেন বন্ধ রাখা, বিকল্প আলাদা রাখা এবং প্রতিবার একই জায়গায় জিনিস ফেরত রাখা।

ভিড়ের যানবাহনে ব্যাগের অবস্থান বদলাতে হয়

নিরিবিলি রাস্তায় যে ব্যাগ আরামদায়ক, ঠাসা মেট্রোতে সেটিই অরক্ষিত হতে পারে। ব্যাকপ্যাক সামনে আনুন, বাইরের পকেট বন্ধ রাখুন এবং ট্রেনের দরজার কাছে ফোন আলগাভাবে ধরে রাখবেন না। ক্যাফে বা স্টেশনে বসে টিকিট গুছানোর সময় মানিব্যাগ টেবিলে রাখবেন না। ব্যাগ ধরার ভঙ্গিতে সামান্য বদল অনেক সময় এমন নিরাপত্তাসামগ্রী কেনার চেয়ে কাজে দেয় যা পরে অসতর্কভাবে ব্যবহার করবেন।

ফোন হারালে পরিচয় যাচাই করাই আড়ালের বড় সমস্যা হতে পারে

অনেক ভ্রমণকারী দেরিতে বুঝতে পারেন যে ব্যাংক, ইমেইল এমনকি হোটেলের অ্যাকাউন্টেও হারানো ফোনে পাঠানো কোড লাগে। যাত্রার আগে পুনরুদ্ধারের উপায় দেখুন এবং ব্যাকআপ কোড বা অন্য অনুমোদিত পদ্ধতি নিরাপদে ব্যবহারযোগ্য রাখুন। বিষয়টি শুধু সাইবার নিরাপত্তা নয়; ফোন হারানোর পরে নতুন টিকিট কেনা, ব্যাংকে যোগাযোগ বা বুকিং খোলার সামর্থ্যও এর ওপর নির্ভর করে।

টেবিল ও চার্জ দেওয়ার জায়গায়ও ছোট ঝুঁকি আছে

বসে পড়লে ভ্রমণকারীরা প্রায়ই অসতর্ক হন। ক্যাফের দূরের প্লাগে চার্জে থাকা ফোন, ট্রের পাশে মানিব্যাগ বা চেয়ারে আলগাভাবে ঝোলানো ব্যাগ—পকেটমারের নাটকীয় কোনো ঘটনা ছাড়াই হারিয়ে যেতে পারে। চার্জ দেওয়ার সময় ফোন চোখের সামনে রাখুন, ব্যাগ নিজের শরীরের সঙ্গে যুক্ত রাখুন এবং উঠে দাঁড়ানোর আগে মূল্যবান জিনিস গুছিয়ে নিন। বেশির ভাগ হারানোর ঘটনা সিনেমার চুরিতে নয়, সাধারণ এক কাজ থেকে অন্য কাজে যাওয়ার মুহূর্তে ঘটে।

ভ্রমণের পরিকল্পনা করছেন?

SY.com-এ ফ্লাইটের বিকল্প ও ভ্রমণের অফার তুলনা করুন।

ফ্লাইট খুঁজুন