সাউদাম্পটন ক্রুজ বন্দর: লন্ডন থেকে যাতায়াত, হোটেল ও জাহাজে ওঠা

সাউদাম্পটন যুক্তরাজ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্রুজ যাত্রাবন্দর, যেখানে একাধিক টার্মিনাল আছে। অথচ বহু আন্তর্জাতিক পর্যটক আসেন লন্ডনের বিমানবন্দর বা শহরের কেন্দ্র দিয়ে। ‘লন্ডন ক্রুজ’ শুনে জাহাজ রাজধানীর পাশেই আছে ধরে না নিয়ে এই জায়গাগুলোর মধ্যে নির্ভরযোগ্য যাতায়াত ঠিক করাই মূল কাজ।

সাউদাম্পটনে একাধিক ক্রুজ টার্মিনাল

সাউদাম্পটনে একাধিক ক্রুজ টার্মিনাল আছে, তাই যাওয়ার আগে আপনার জাহাজ কোন ঘাটে থাকবে নিশ্চিত করুন। সব স্থাপনা এক ভবনে নয়। হোটেল, ট্যাক্সিচালক বা ট্রান্সফার কোম্পানিকে সঠিক টার্মিনাল জানাতে হবে; লাগেজ নিয়ে একটির থেকে অন্যটিতে হাঁটা যুক্তিযুক্ত বিকল্প নয়। বরাদ্দ বদলাতে পারে, তাই শুধু সাধারণ বন্দর এলাকায় যাওয়ার বদলে বর্তমান ঘাট যাচাই করুন।

কোথা থেকে শুরু করছেন তার ওপর লন্ডন থেকে ট্রেন, কোচ, ব্যক্তিগত ট্রান্সফার ও ট্যাক্সি—সবই কাজে লাগতে পারে। লাগেজ ও পৌঁছানোর সময় অনুযায়ী মাধ্যম বেছে নিন। সরাসরি ট্রেন দ্রুত হতে পারে, আর দীর্ঘ বিমানের পর অনেক ব্যাগ থাকলে বিমানবন্দর থেকে গাড়ির ট্রান্সফার সহজ লাগতে পারে।

সাউদাম্পটন নিজেই ব্যবহারিক ক্রুজ যাত্রার শহর, কেবল ‘লন্ডনের ক্রুজ বন্দর’ নয়। রেল ও সড়ক যোগাযোগ ভালো হলেও লন্ডনের বিমানবন্দরগুলো থেকে দূরত্ব ও যাতায়াতের সুবিধা অনেক আলাদা।

বিমানবন্দর থেকে সাউদাম্পটন বন্দরে পৌঁছানোর সময়

হিথ্রো, গ্যাটউইক ও মধ্য লন্ডন সাউদাম্পটন থেকে আলাদা জায়গা; সেখান থেকে যেতে যথেষ্ট সময় লাগে। সম্ভব হলে আন্তর্জাতিক যাত্রীদের জাহাজে ওঠার সকালেই বিমান নামানো এড়ানো উচিত। বিমান দেরি ও দীর্ঘ স্থলযাত্রা—টার্মিনালে পৌঁছানোর আগেই দুটি স্বাধীন ঝুঁকি। ঘড়িতে সুবিধাজনক দেখানো ফ্লাইটও বিমানবন্দর টার্মিনাল থেকে দূরে হলে জাহাজের দিনে কঠিন যাত্রা তৈরি করতে পারে।

সাউদাম্পটনে থাকলে ওঠার আয়োজন সহজ; আগে কয়েক দিন লন্ডন দেখতে চাইলে লন্ডনের হোটেল যুক্তিযুক্ত। সময়সূচিতে সুবিধা না হলে এক রাতের জন্য অকারণে শহর বদলাবেন না। পর্যাপ্ত সময় হাতে রেখে সকালের ট্রেন বা আগে থেকে বুক করা ট্রান্সফার ভালো কাজ করতে পারে।

জাহাজে ওঠার দিনের ব্যবহারিক প্রস্তুতি

ব্রিটিশ আবহাওয়া ও রেলে বিঘ্ন সাধারণ সম্ভাবনা, বিরল ব্যতিক্রম নয়। তাই শেষ যাতায়াত সহজ রাখুন। লাগেজ থাকলে অযথা একের পর এক স্টেশন বদলানো এড়ান। রেল ব্যবহার করলে যাত্রার কাছাকাছি সময়ে লাইনের মেরামত বা বড় অনুষ্ঠানে পরিষেবা ব্যাহত হচ্ছে কি না দেখুন। শেষ কয়েক কিলোমিটার সহজ হয় যখন একই সকালে ঘোরা, কেনাকাটা ও লাগেজ সামলানোর সব কাজ চাপানো হয় না।

ক্রুজ শেষে জাহাজ থেকে নামা, ব্যাগ সংগ্রহ এবং লন্ডন বা বিমানবন্দরে পৌঁছানোর জন্য সময় রাখুন। সকালের যানজট ও ট্রেনের সূচিতে খুব তাড়াতাড়ি ফ্লাইট ধরার চেষ্টা চাপের হতে পারে। দূরপাল্লার যাত্রীদের জন্য একটু দেরির উড়ান বা ক্রুজ-পরবর্তী হোটেল অনেক সময় বেশি স্বস্তিদায়ক।

আগে পৌঁছানো কেন কাজে লাগে

অন্তত এক দিন আগে যুক্তরাজ্যে পৌঁছালে দেরি হওয়া বিমান বা লাগেজ সামলানোর সময় পাওয়া যায়। লন্ডন দেখা সফরের অংশ হলে ক্রুজের আগের কয়েক রাত পর্যটন ও সময়সূচির সুরক্ষা—দুই কাজেই লাগতে পারে। বাড়তি সময় অপচয় মনে হওয়ার প্রয়োজন নেই। এক দিন আগে বিমানে আসা সংযোগ হারানো, দেরিতে লাগেজ পাওয়া বা আবহাওয়া-সংক্রান্ত বিঘ্ন থেকে ক্রুজকে রক্ষা করে।

ট্রেন ও ট্যাক্সিতে বড় ক্রুজ-লাগেজ নেওয়া সম্ভব, তবে বাড়তি পরিশ্রম লাগে। দরকারমতো আসন বা গাড়ি আগে বুক করুন এবং সব স্টেশনে সিঁড়ি ছাড়া চলাচলের ব্যবস্থা আছে ধরে নেবেন না। সবচেয়ে সহজ সাউদাম্পটন রুটে নিজেকে যত কমবার ব্যাগ তুলতে-নামাতে হয় তত ভালো।

জাহাজ ছাড়ার আগের রাতে সাউদাম্পটনে থাকলে ওঠার দিনের একটি বড় অনিশ্চয়তা দূর হয়। আন্তর্জাতিক উড়ানের পরে বা লাগেজসহ একই দিনে লন্ডন থেকে আসা ক্লান্তিকর হলে এটি বিশেষ উপকারী।

লন্ডন হয়ে এলে কোন বিমানবন্দরে নামছেন তা সাউদাম্পটনের দুটি হোটেলের পার্থক্যের চেয়েও বেশি প্রভাব ফেলতে পারে। হিথ্রো, গ্যাটউইক ও অন্য বিমানবন্দর থেকে যাতায়াত সমান নয়, তাই বন্দরে পৌঁছানো মাথায় রেখেই ফ্লাইট বাছুন।

ক্রুজের পরিকল্পনা করছেন?

CruiseDirect-এ ক্রুজের পথ ও বর্তমান অফার তুলনা করুন।

ক্রুজ খুঁজুন