বিদেশে নতুন নাগরিকত্ব নেওয়ার পর পুরোনো নাগরিকত্ব ধরে রাখা

বিদেশে স্বাভাবিকীকরণ মানেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে পুরোনো নাগরিকত্ব হারানো নয়। তবে কিছু দেশ নাগরিকত্ব হারানো, ত্যাগ, ঘোষণা বা ধরে রাখার শর্ত আরোপ করে।

দুই দেশের নাগরিকত্ব আইন দিয়ে শুরু করুন

নতুন নাগরিকত্ব নেওয়ার আগে নতুন দেশ এবং যে দেশের নাগরিকত্ব ইতিমধ্যে আছে—দুটোর আইন দেখুন। নতুন দেশ দ্বৈত নাগরিকত্ব অনুমোদন করলেই মূল নাগরিকত্ব বজায় থাকবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।

নাগরিকত্ব হারানো স্বয়ংক্রিয়, ঐচ্ছিক, নাকি শুধু আনুষ্ঠানিক ত্যাগের ফলে হয়—নির্ধারণ করুন। মূল দেশের আইনে অন্য দেশে স্বেচ্ছায় নাগরিক হওয়ার সঙ্গে নাগরিকত্ব হারানো যুক্ত থাকলে অনিচ্ছায়ও আগের নাগরিকত্ব শেষ হতে পারে।

পুরোনো নাগরিকত্ব থাকবে কি না জানতে পাসপোর্ট আবেদনের কথায় নির্ভর করবেন না। নির্ণায়ক বিধি নাগরিকত্ব আইনে থাকতে পারে বা মূল দেশ থেকে আলাদা অনুমতি লাগতে পারে।

নতুন দেশে দ্বৈত নাগরিকত্ব অনুমোদন প্রশ্নের অর্ধেক। আবেদনকারীর মূল দেশে অন্য নাগরিকত্ব স্বেচ্ছায় নেওয়া, তথ্য জানানো ও নাগরিকত্ব ধরে রাখার নিজস্ব বিধি থাকতে পারে। স্বাভাবিকীকরণের শপথ বা শেষ ঘোষণার আগেই দুটি আইনি ব্যবস্থা যাচাই করুন।

স্বেচ্ছায় নাগরিক হওয়া আর স্বয়ংক্রিয়ভাবে পাওয়া নাগরিকত্ব ভিন্ন হতে পারে

নতুন নাগরিকত্বের পর কী প্রমাণ লাগতে পারে, পরিষ্কার করুন। কোনো দেশে নাগরিকত্ব ধরে রাখার ঘোষণা, নোটিশ, নিবন্ধন বা বিশেষ পরিস্থিতিতে নতুন নাগরিকত্ব পাওয়ার প্রমাণ চাইতে পারে।

পুরোনো নাগরিকত্ব হারাবেন কি না, তা নতুন নাগরিকত্ব কীভাবে পেলেন তার ওপর নির্ভর করতে পারে। কিছু দেশ স্বেচ্ছায় স্বাভাবিকীকরণকে জন্মসূত্রে বা বিয়ের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয় নাগরিকত্ব থেকে আলাদা দেখে। অন্য দেশে আগে অনুমতি, ঘোষণা বা পরে নাগরিকত্ব ধরে রাখার ধাপ থাকে। নতুন নাগরিকত্ব নেওয়ার সিদ্ধান্ত অপরিবর্তনীয় হওয়ার আগে মূল দেশের আইন যাচাই করুন।

সময় ও ঘোষণা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে

নাগরিকত্ব ধরে রাখার অনুমতি বা ঘোষণা অন্য নাগরিকত্ব নেওয়ার আগে সম্পন্ন করতে হলে শপথের পর নিয়মটি জানতে পারা অনেক দেরি হয়ে যেতে পারে।

কিছু আইনি পরিণতি আবেদন করার সময় নয়, স্বেচ্ছায় নতুন নাগরিকত্ব অর্জনের ঘটনায় শুরু হয়। তাই শেষ ঘোষণা বা শপথ সময়রেখার গুরুত্বপূর্ণ বিন্দু। যাঁদের নাগরিকত্ব ধরে রাখার অনুমোদন বা নোটিশ দরকার, তাঁদের জানতে হবে ধাপটি আগে, একই সময়ে নাকি পরে সম্পন্ন করতে হবে।

পরিবারের সদস্যদের ফল আলাদা হতে পারে

সন্তানের অবস্থান আলাদা বিবেচনা করুন। মা বা বাবা নাগরিকত্ব পেলে বা হারালে নাবালকের ওপর ভিন্ন প্রভাব পড়তে পারে; সন্তানের স্বাধীন অধিকার থাকতে পারে, যা অভিভাবকের চূড়ান্ত অবস্থার সঙ্গে পুরোপুরি মেলে না।

নতুন নাগরিকত্বে বৃহত্তর অঞ্চলে নতুন অধিকার মিললে পুরোনো নাগরিকত্ব ধরে রাখার প্রভাব ভবিষ্যৎ পরিবার, উত্তরাধিকার ও চলাচলের পরিকল্পনায় দেখুন। বাস্তব সুবিধা শুধু দুটি পাসপোর্টের মধ্যে সীমিত নাও থাকতে পারে।

ব্যবহারিক পরিণতি পাসপোর্টের বাইরে যায়। নাগরিকত্ব হারালে বসবাসের অধিকার, উত্তরাধিকার, সম্পত্তির মালিকানা, ভোট, কনস্যুলার সহায়তা ও সন্তানের অবস্থায় প্রভাব পড়তে পারে। মূল পাসপোর্ট খুব কম ব্যবহার করলেও এমন আইনি অধিকারের ওপর নির্ভর করে থাকতে পারেন, যার গুরুত্ব হারানোর পর বোঝা যায়।

শেষ স্বাভাবিকীকরণের ধাপের আগে ফল নিশ্চিত করুন

নাগরিকত্ব ধরে রাখার বিষয়কে কর-আবাসের সঙ্গে মেলাবেন না। দুটি পাসপোর্ট থাকলেই দুইবার কর দিতে হবে এমন নয়; আবার কোনো নাগরিকত্ব না বদলালেও বাসস্থান বদলে করের প্রভাব পড়তে পারে।

স্বাভাবিকীকরণ সম্পন্ন করার ঠিক আগে মূল দেশের নিয়ম আবার দেখুন। নাগরিকত্ব আইন বদলাতে পারে; বহু বছর আগে নাগরিক হওয়া বন্ধুর অভিজ্ঞতার চেয়ে এই প্রশ্নে কনস্যুলার নির্দেশনা বেশি নির্ভরযোগ্য।

শেষ ধাপ গুরুত্বপূর্ণ, কারণ কিছু নাগরিকত্বগত পরিণতি নতুন নাগরিকত্ব বাস্তবে অর্জনের পরেই তৈরি হয়। পুরোনো নাগরিকত্ব রাখতে চাইলে নতুন পাসপোর্ট হাতে পাওয়ার পরে নয়, সম্পূর্ণ করার আগেই প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ করুন।

ঘোষণা বা পূর্বানুমতির ওপর নাগরিকত্ব ধরে রাখা নির্ভর করলে সময় নির্ণায়ক হতে পারে। আগে পূরণ করতে হতো এমন শর্ত স্বাভাবিকীকরণের পরে পূরণ করলে ত্রুটি মিটবে না। তাই শেষ অনুষ্ঠান বা নিবন্ধনের আগে মূল দেশের বিধান পরীক্ষা জরুরি।

ভ্রমণের পরিকল্পনা করছেন?

SY.com-এ ফ্লাইট ও ভ্রমণের বিকল্প তুলনা করুন।

ফ্লাইট খুঁজুন