জাপানের প্রধান দ্বীপগুলো ঘিরে ক্রুজ হতে পারে
জাপানের প্রধান দ্বীপ ঘুরে ফিরে আসা রুট যেমন আছে, তেমনই পাশের দেশের বন্দর যুক্ত সফর বা নির্দিষ্ট একটি অঞ্চলকেন্দ্রিক যাত্রাও আছে। মোট কতটি বন্দরে থামছে তার চেয়ে কোন শহর ও প্রাকৃতিক দৃশ্য দেখতে চান সেটি আগে ঠিক করুন। মানানসই রুট পাওয়ার পর জাহাজের বৈশিষ্ট্য তুলনা করুন।
ক্রুজ কোথা থেকে শুরু ও শেষ হবে, কোন বন্দরে কতক্ষণ থামবে এবং পথের দৃশ্য কেমন—এসবই শেষ পর্যন্ত কী দেখতে পাবেন তা নির্ধারণ করে। বসন্ত ও শরৎ ঘোরার জন্য জনপ্রিয়, গ্রীষ্মে গরম ও আর্দ্রতা বেশি হতে পারে। জাপানের সব অঞ্চলের আবহাওয়া এক নয়; মৌসুমি ফুল বা পাতার রঙ দেখার সময় চাহিদাও বাড়তে পারে।
বড় শহরের পাশাপাশি কম পরিচিত আঞ্চলিক বন্দর জাপানের ক্রুজকে বিশেষ করে তুলতে পারে। স্থলপথে একই সফরে এতগুলো অঞ্চল ঘোরা সময়সাপেক্ষ হতো। তাই কোন বন্দরে আপনি আলাদাভাবে যেতেন আর কোনটি সত্যিই নতুন জায়গা দেখার সুযোগ দিচ্ছে, তা তুলনা করুন।
অনেক বন্দরে ভাষার সমস্যা সামলানো সম্ভব হলেও গন্তব্যের ঠিকানা জাপানি অক্ষরে সংরক্ষণ করলে ট্যাক্সি নেওয়া বা স্থানীয় পথ খুঁজতে সুবিধা হয়। বিশেষ করে টার্মিনাল শহরের প্রধান স্টেশন থেকে দূরে হলে এই ছোট প্রস্তুতিটি কাজে আসে।
জাপানের গণপরিবহন নিজে ঘুরতে সাহায্য করে, তবে বড় স্টেশন, প্ল্যাটফর্ম বদলানো এবং একাধিক সংযোগে সময় লাগতে পারে। স্থলভ্রমণে বেরোনোর আগে জাহাজে ফেরার পথ ও সময়সূচি অফলাইনে রেখে দিন; সব জায়গায় ওয়াই-ফাই মিলবে ধরে নেবেন না।
ইয়োকোহামা টোকিও এলাকার প্রধান বন্দর
ইয়োকোহামা টোকিও অঞ্চলের বড় প্রবেশদ্বার; ওসাকা-কোবে এলাকা এবং অন্য অনেক শহরেও ক্রুজ টার্মিনাল আছে। বিমানবন্দর থেকে বন্দরে যাওয়ার ব্যবস্থা আলাদাভাবে ভাবুন। হোটেল, স্থানান্তর এবং অন্য শহর থেকে ফেরার বিমানভাড়া মোট খরচ বদলে দেয়। বড় শহর থেকে ছোট আঞ্চলিক বন্দর—জাপানে ক্রুজের গন্তব্য বিস্তৃত; জাতীয় পর্যটন সংস্থা JNTO বিভিন্ন বন্দরের প্রবেশপথ ও আশপাশের আকর্ষণের তথ্য প্রকাশ করে।
বন্দরের নামের তালিকার বাইরে দেখুন, সেখানে বাস্তবে কত ঘণ্টা থাকবেন, জাহাজ কোথায় ভিড়বে এবং শহরে পৌঁছানোর উপায় কী। জাপানের রেলব্যবস্থা কার্যকর হলেও দূরের জায়গায় গিয়ে ফেরার সময় খুব কম ধরে নেবেন না। জাহাজ মিস না করার মতো সময় হাতে রাখুন।
ইয়োকোহামা বা অন্য যাত্রার শহরকে কেবল জাহাজ ধরার জায়গা ভাববেন না। দীর্ঘ আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের পর আগের রাতে ভালো অবস্থানের হোটেলে থাকলে টার্মিনালে পৌঁছানো সহজ হয় এবং শহরটিও কিছুটা দেখা যায়।
নির্দিষ্ট অঞ্চল ও মাস অনুযায়ী আবহাওয়া দেখুন। জাপানের উত্তর থেকে দক্ষিণে তাপমাত্রা, ফুল ফোটার সময় ও শরতের পাতার রঙ বদলানোর সময় আলাদা। পুরো দেশে একই মৌসুমি অবস্থা থাকবে—এমন ধারণা ঠিক নয়।
জাপানের ক্রুজে স্থলভ্রমণ
মন্দির, বাগান, খাবারের রাস্তা কিংবা মনোরম ট্রেনযাত্রা ক্রুজের দিনে উপভোগ করা যায়। তবে জনপ্রিয় আকর্ষণে নির্দিষ্ট সময়ের টিকিট লাগতে পারে। সব ঘণ্টা আগে থেকে বুক না করে কিছুটা সময় খোলা রাখুন, যাতে শহরটিও নিজের মতো দেখা যায়।
কিছু বন্দরে ট্রেন বা হেঁটে নিজের মতো ঘোরা সহজ, অন্যত্র বিশেষ যানবাহন বা সংগঠিত ট্যুর সুবিধা দেয়। প্রতিটি বন্দরে একই পদ্ধতি না নিয়ে গন্তব্য অনুযায়ী স্থলভ্রমণের পরিকল্পনা ও বাজেট করুন।
ছোট জাহাজে আলাদা ধরনের বন্দর পাওয়া যায়
ছোট জাহাজ এমন কিছু বন্দরে যেতে পারে, যেখানে বড় জাহাজের প্রবেশ সীমিত; বড় জাহাজে আবার সমুদ্রের দিনে বেশি বিনোদন ও সুবিধা থাকে। প্রথমবার জাপানে গেলে জাহাজ কত নতুন, তার চেয়ে বন্দরসূচি প্রায়ই বেশি জরুরি। টোকিও, কিয়োটো-ওসাকা বা অন্য বড় শহরে ক্রুজের আগে বা পরে সময় রাখলে জরুরি দর্শনগুলো অল্প সময়ের বন্দরবিরতিতে গুঁজতে হয় না। শেষ দিনের যাতায়াত ও ভিন্ন শহরের ফ্লাইটও আগে ঠিক করুন।
জাহাজের আকার রুটের সম্ভাবনাও বদলে দেয়। ছোট জাহাজে কম প্রচলিত গন্তব্য, বড় জাহাজে সমুদ্রের দিন বেশি সুযোগসুবিধা—আপনার কাছে কোনটির মূল্য বেশি তা বুঝে বাছুন।
বন্দরে নিজের মতো ঘুরলে স্থানীয় খাবার চেখে দেখার সুযোগও মেলে। জাহাজে ফিরতে যথেষ্ট সময় রেখে কোনো ছোট রেস্তোরাঁয় দুপুরের খাবার খাওয়া অনেক সময় শুধু বাসে একের পর এক দর্শনীয় স্থান দেখার চেয়ে বেশি মনে থাকে।
দীর্ঘ জাপান ক্রুজে পরিচিত মহানগরের পাশাপাশি অচেনা আঞ্চলিক বন্দরও থাকতে পারে। কখনও সেই কম পরিচিত বিরতিই সফরের সবচেয়ে স্মরণীয় অংশ হয়। তাই শুধু টোকিও, কিয়োটো বা ওসাকার কাছাকাছি থামে কি না, তা দিয়ে পুরো রুটের মূল্য বিচার করবেন না।
ক্রুজে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন?
CruiseDirect-এ ক্রুজের রুট ও সাম্প্রতিক অফার তুলনা করুন।
ক্রুজ খুঁজুন