কিছু ক্রুজে সিডনি বা মেলবোর্নের সঙ্গে নিউজিল্যান্ড যুক্ত থাকে
কিছু ক্রুজ সিডনি বা মেলবোর্ন থেকে নিউজিল্যান্ডে যায়, অন্যগুলো একটি দেশের বন্দরেই বেশি সময় দেয় কিংবা দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরের অন্য গন্তব্যও যুক্ত করে। তাসমান সাগর পেরোতে কত দিন লাগবে, তা হিসাব করুন। রুটের বন্দর ও প্রাকৃতিক দৃশ্যই ঠিক করবে আপনি কী দেখতে পাবেন। ট্যুরিজম নিউজিল্যান্ডের হিসাবে প্রধান ক্রুজ সংস্থাগুলো সাধারণত অক্টোবর থেকে এপ্রিলের উষ্ণ মৌসুমে আসে, যদিও শীতেও কিছু যাত্রা থাকে; অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলের মৌসুম আবার এক নয়।
এ ধরনের যাত্রায় দীর্ঘ সমুদ্রপথের সঙ্গে খুব ভিন্ন স্বাদের বন্দর মেলে। নিউজিল্যান্ডের প্রকৃতিনির্ভর সফর আর অস্ট্রেলিয়ার বড় শহরকেন্দ্রিক যাত্রা একই অঞ্চলের ক্রুজ হলেও একরকম নয়। বন্দরে ঘোরার দিন ও সমুদ্রে বিশ্রামের দিনের ভারসাম্য দেখুন।
শুরুর শহর আর শেষের শহর আলাদা হলে আগে থেকেই বিমানভাড়া যাচাই করুন। মানচিত্রে আকর্ষণীয় একমুখী রুট আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ও অতিরিক্ত হোটেলের খরচ যোগ হলে অনেক বেশি ব্যয়বহুল বা ঝামেলাপূর্ণ হয়ে যেতে পারে।
দূর থেকে আসা যাত্রীদের জন্য সময়ের অঞ্চলের পরিবর্তন জাহাজে ওঠার আগেই ক্লান্তি আনতে পারে। ক্রুজ শুরুর অন্তত কিছুটা আগে পৌঁছালে শরীর মানিয়ে নিতে পারে, আবার বিমান দেরি হলেও জাহাজ মিস করার আশঙ্কা কমে।
যাত্রার প্রধান শহর: সিডনি ও অকল্যান্ড
সিডনি ও অকল্যান্ড জনপ্রিয় প্রবেশদ্বার, তবে রুটভেদে দুই দেশের আরও বন্দর ব্যবহৃত হয়। বিদেশ থেকে গেলে আগের রাতে হোটেলে থাকা সাধারণত ভালো সিদ্ধান্ত। নিউজিল্যান্ডে অকল্যান্ড, তাওরাঙ্গা, ওয়েলিংটন, নেপিয়ার, দক্ষিণ দ্বীপের বন্দর ও ফিয়র্ডল্যান্ডের দৃশ্য থাকতে পারে। অস্ট্রেলিয়ার রুটে বড় পূর্ব উপকূলীয় শহর ও আঞ্চলিক বন্দর যুক্ত হয়। প্রতিটি বন্দরে কতক্ষণ থাকা হবে, কোথায় জাহাজ ভিড়বে এবং দর্শনীয় স্থানে পৌঁছাতে কত সময় লাগবে, তা মিলিয়ে দেখুন। তাসমান সাগরের দিনগুলোও সত্যিকারের সমুদ্রযাত্রা; ফিয়র্ডল্যান্ড ও উপকূলের দৃশ্য ডেক থেকে দেখার মতো।
সিডনি বা অকল্যান্ডকে শুধু জাহাজে ওঠার জায়গা হিসেবে ভাবার দরকার নেই। সুযোগ থাকলে ক্রুজের আগে বা পরে দু-এক রাত থেকে শহর ঘুরে দেখা যায়। একমুখী সফরের বিমান আগে ঠিক করলে এই পরিকল্পনা করা সহজ হয়।
এক সফরেই অস্ট্রেলিয়ার শহর, নিউজিল্যান্ডের উপকূল ও খোলা সমুদ্র পেরোতে আবহাওয়া যথেষ্ট বদলাতে পারে। একটি অঞ্চলের তাপমাত্রা ধরে পোশাক না গুছিয়ে স্তরে স্তরে পরার কাপড় এবং বৃষ্টি থেকে বাঁচার ব্যবস্থা রাখুন।
অস্ট্রেলিয়া–নিউজিল্যান্ড ক্রুজে বন্দরে ঘোরার পরিকল্পনা
বন্দর থেকে ভূতাপীয় অঞ্চল, আঙুরক্ষেত বা দূরের প্রাকৃতিক দৃশ্যে যেতে অনেক সময় লাগতে পারে। শহরে ভালো যোগাযোগ থাকলে নিজের মতো ঘোরা সহজ। সীমিত আসনের বিশেষ ট্যুর আগে বুক করুন, আর হাঁটাহাঁটি করে দেখা যায় এমন বন্দরগুলোর জন্য কিছুটা স্বাধীনতা রাখুন।
নিউজিল্যান্ডের কিছু বন্দরে বড় আকর্ষণ পৌঁছাতে দীর্ঘ গাড়িপথ পাড়ি দিতে হয়; অস্ট্রেলিয়ার বড় শহরে অনেক সময় স্বাধীনভাবে ঘোরা সহজ। তাই প্রতিটি বন্দরের পরিবহনব্যবস্থা অনুযায়ী ট্যুরের বাজেট ঠিক করুন, সব জায়গায় একই পদ্ধতি ব্যবহার করবেন না।
সমুদ্রে কাটানো দিনের আরামের জন্যও জাহাজ বাছুন
দেশ দুটির মধ্যে সমুদ্রপথ দীর্ঘ হওয়ায় জাহাজের আরাম গুরুত্বপূর্ণ। ঠান্ডা বা বাতাসের দিনে ভেতরে বসে দৃশ্য দেখার ভালো ব্যবস্থা আছে কি না দেখুন। ক্রুজের শুরুর ও শেষের শহর আলাদা হতে পারে; তাই জাহাজ, যাত্রার দিক, বিমানভাড়া ও আগে-পরে থাকার পরিকল্পনা একসঙ্গে তুলনা করুন।
ভূমধ্যসাগরের ঘনঘন বন্দরে থামা ক্রুজের তুলনায় এখানে কেবিনের আরাম ও সমুদ্রে কাটানোর দিনের সুযোগসুবিধা বেশি গুরুত্ব পেতে পারে। মোট কত ঘণ্টা জাহাজে থাকবেন, সেটি ভেবে কেবিন ও জাহাজ নির্বাচন করুন।
একাধিক ব্যস্ত বন্দরের পরে সমুদ্রের দিনগুলো বিশ্রামের সুযোগ দেয়। যদি স্থলে ঘোরাঘুরির কর্মসূচি খুব ঘন হয়, তাহলে সন্ধ্যার জমকালো অনুষ্ঠান যতটা নয়, আরামদায়ক লাউঞ্জ ও দিনের বেলায় ভালো খাবারের ব্যবস্থাই হয়তো বেশি কাজে আসবে।
বন্যপ্রাণী দেখা বা বিশেষ প্রাকৃতিক দৃশ্যের ট্যুর আপনার অগ্রাধিকার হলে সীমিত আসনের আয়োজন আগে বুক করুন। সাধারণ শহর ঘোরার পরিকল্পনা পরে বদলানো যায়, কিন্তু নির্দিষ্ট রেলযাত্রা, বন্যপ্রাণী পর্যবেক্ষণ বা বিশেষ দৃশ্য দেখার সফরে সুযোগ কম থাকতে পারে।
ক্রুজে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন?
CruiseDirect-এ ক্রুজের রুট ও সাম্প্রতিক অফার তুলনা করুন।
ক্রুজ খুঁজুন